হাওজা নিউজ এজেন্সি: আল জাজিরা টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাশাল বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি জনগণকে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সামনে অসহায় ও সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে সেগুলো সশস্ত্র মিলিশিয়াদের হাতে তুলে দিতে চায়, যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো যায়।
মাশাল যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান—তারা যেন ইসরায়েলি দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ না করে ন্যায়নীতি ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থানের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।
তিনি গাজার পুনর্গঠনে হামাসের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সব ধরনের মানবিক সহায়তা যেন নির্বিঘ্নে ও যথাযথভাবে গাজায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, হামাস কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে।
মাশাল বলেন, ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলেও ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার, জাতীয় পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজায় অবশিষ্ট অস্ত্রসমূহ সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঠেকাতে পারাকে তিনি হামাসের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’-এর পর ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল হামাসকে ধ্বংস করা এবং গাজা দখল করা। তবে এখন পর্যন্ত তারা সে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে দুর্ভিক্ষ, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং জীবনযাত্রার চরম বিপর্যয় অন্তর্ভুক্ত।
আপনার কমেন্ট